দেশব্যাপী আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সুসংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি পরিচালিত হবে এবং সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড পর্যায় থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায় পেরিয়ে সেরা প্রতিভারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বাংলাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলের অধীনে একাধিক জেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি তদারকির দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
তিনি আরও বলেন, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। এ ছাড়া অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের মতো ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রাথমিক বাছাই ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হারে ভাতা দেবে। জেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড়দের জার্সি প্রদান করা হবে এবং প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে স্বীকৃতিস্বরূপ সনদপত্র দেওয়া হবে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং স্বজনপ্রীতি রোধে তিনি নিজে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে বলেও জানান।
অতীতের পরিকল্পনাহীন অর্থ ব্যয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে তিনি প্রতিভা বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি সংস্কারের একটি বড় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।