চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে সংসদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা অভিযোগ করেছেন, সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল পরিকল্পিত চক্রান্ত চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চলতে দিতে চায় না।
বুধবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ছাত্রদলের অপরাধ কী ছিল? তার দাবি অনুযায়ী, ছাত্রদল শুধু ‘গুপ্ত’ শব্দটি বলেছে ও লিখেছে বলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গুপ্ত’ শব্দ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করা হয়েছে।
আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞার বক্তব্যের সময়ই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংসদে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা এক্সপাঞ্জ করা উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হুমকির ভাষায় কথা বলেছেন, যা বিরোধী দলকে আহত করেছে।
নিজ বক্তব্যে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষে বসে থাকবে না, তারা প্রতিবাদ করবে। তিনি দাবি করেন, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সদ্যজাত সরকার কাজ করছে, কিন্তু বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি, তারা বাংলাদেশের উন্নয়নও চাইতে পারে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই শক্তিগুলোই এখন সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
পরবর্তীতে এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “জনগণ বসে থাকবে না” কথাটি উসকানিমূলক এবং বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। তিনি সংসদে ব্যবহৃত অসংসদীয় ভাষা বাদ দেওয়ারও দাবি জানান।
চট্টগ্রামের ‘গুপ্ত’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।