ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণও ঠিক হয়ে গেছে; এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। রেওয়াজ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় কমিশনকে। তার অংশ হিসেবে আজ বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে পুরো কমিশন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করা হবে, আর সেই ভাষণের মাধ্যমেই ঘোষণা করা হবে বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রাহমানেল মাছউদ জানান, তফসিল ঘোষণার জন্য ভাষণের সব প্রস্তুতি শেষ। তিনি বলেন, বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা হতে পারে। রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভাষণ রেকর্ড করা হবে। তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা ইসির দায়িত্ব নয়, তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। আসনবিন্যাস, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল ও আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ প্রায় ২০টি পরিপত্র জারির প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর এই নির্দেশনাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার সম্ভাব্য প্রার্থিতা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি পদে থেকে কেউ নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন না; প্রচার করতে না পারলে তারা প্রার্থীও হতে পারবেন না। তাই পদে থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
ইসি সূত্র জানায়, আজই সিইসির ভাষণ রেকর্ডের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রেকর্ড করা ভাষণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ১০ম সভায় তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।