জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ক্লাসরুম সংকট নিরসনে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি ও সভার সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছরের ১ লা ফেব্রুয়ারি এক সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হিসেবে একই ভবনে অবস্থিত কলা ও মানবিকী অনুষদের অন্যান্য বিভাগের ক্লাসরুম দুপুর ২টার পর শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে ইংরেজি বিভাগের ক্লাস পরিচালনায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি আসেনি।
এদিকে নতুন কলা ভবনের চতুর্থ তলার অসমাপ্ত অংশে ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের বসার কক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনাও এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। অর্থায়ন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে এই কাজ কবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন লেকচার হল ভবনের তৃতীয় তলার কক্ষসমূহ দ্রুত প্রস্তুত করে ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তও বাস্তবায়নের আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
ক্লাসরুম সংকটের বিষয়ে বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছি। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় কখনো নির্ধারিত কক্ষে জায়গা পাওয়া যায় না, আবার কখনো কনফারেন্স রুম বা অস্থায়ী জায়গায় ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে আমাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আমরা দেখতে পাইনি।”
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, “দুপুর ২টার পর রুম শেয়ারিংয়ের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা এখনো শুরু হয়নি।তার রুটিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। বর্তমানে আমরা মাত্র দুটি ছোট এবং দুটি বড় কক্ষে পাঁচটি চলমান ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করছি। সাম্প্রতিক সময়ে কোর্স শিক্ষকদের স্লট শিডিউলে অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের কনফারেন্স কক্ষে ক্লাস নিতে হচ্ছে। মূলত স্লট মিসম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।”
তিনি আরও বলেন, “লেকচার থিয়েটারের তৃতীয় তলায় ক্লাসরুম দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল আহমেদ স্বীকার করেন, “তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে ক্লাসরুম শেয়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।” তবে তিনি দাবি করেন, “লেকচার থিয়েটারের তৃতীয় তলার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে।”
তবে অতীত অভিজ্ঞতায় এমন আশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার পরিবেশ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।