রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ।
রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, “এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। কারণ আসামি নিজেই দোষ স্বীকার করেছে এবং তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি। সে কারণে তিনি অপরাধী এবং একজন অপরাধীর ন্যায়বিচার হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
একই সঙ্গে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, “আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ রায় দিয়েছেন।”
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে, ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ১ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ২ জুন মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা-মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৭ জুন আদালত আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।