রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে, ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তবে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় ১ জুন। ওই দিন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন।
পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা-মা, বোন, স্বজন, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাক্ষীসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হওয়া এ মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগপত্র দাখিল থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এটিকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচারিক অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বের সমাপ্তি ঘটল।