নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, “হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ। অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করা যাবে না। — আদেশক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।”
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি বলেন, নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আহমেদ আবু জাফর তার পোস্টে আরও বলেন, স্থানীয় সাংবাদিক আরু সাঈদ অপু হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব ত্রুটি সংশোধন করে সেবার মান উন্নত করবে। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ না করে সাংবাদিকদের ‘মুখ বন্ধ’ করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে শতাধিক মন্তব্যে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, হাসপাতালের ভেতরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা আড়াল করতেই সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
মন্তব্যকারীদের মধ্যে সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, হাসপাতাল জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান; এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশে বাধা দেওয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তোলে।