দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একই এলাকায় একাধিক প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন গড়ে ওঠার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা সাংবাদিক সমাজে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে পেশাগত ঐক্য, সংহতি এবং সম্মিলিত শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য, সাংগঠনিক অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এসব কারণেই একই এলাকায় একাধিক সংগঠন গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ কিংবা নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে।
এর ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পেশাগত দাবি-দাওয়া আদায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে—কোন সংগঠন প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতি সাংবাদিকতা পেশার মান, শৃঙ্খলা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য উদ্বেগজনক। কারণ সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল পেশা, যেখানে যোগ্যতা, নৈতিকতা এবং পেশাগত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
তারা আরও উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন পেশার ব্যক্তিরাও আংশিকভাবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ায় পেশার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ফলে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও সুসংগঠিত, নীতিনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সাংবাদিকতা কোনো শখ বা খণ্ডকালীন পরিচয় নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও দায়িত্বশীল পেশা। তাই যথাযথ প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা এবং নৈতিক মান বজায় রাখা অপরিহার্য।
তাদের মতে, একাধিক সংগঠন থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিভাজন নয়—পারস্পরিক সহনশীলতা, সমন্বয় এবং ঐক্যই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। কারণ ঐক্যই পারে সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার এবং পেশাগত শক্তিকে সুসংহত করতে।