কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির তৃতীয় দিনে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
সোমবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে তৃতীয় দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, বিশেষ অতিথি ও রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন , প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সামিমা নাসরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম।
অনুষ্ঠান মোট পাঁচটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন,’তোমাদের মধ্যে অনেকের প্রথম পছন্দ নৃবিজ্ঞান বা প্রত্নতত্ত্ব ছিল না। ফলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষা হলো আনন্দের বিষয় এখানে নিজের বোঝাপড়া বাড়ানো এবং ব্যক্তিগত সম্ভাবনাকে বিকশিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তবে সবকিছুর মূল বিষয় মানুষ। মানুষকে জানা, বোঝা, চেনা এবং তার জীবনের ভেতরকার সুখ-দুঃখকে উপলব্ধি করা। মানুষের মন জয় করা সহজ নয়; অনেক সময় একজন সন্তান যেমন তার মা-বাবাকে খুশি করতে পারে না, তেমনি মানুষের মন ও আচরণ বুঝতেও গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীতের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন, আর নৃবিজ্ঞান মানুষের উৎপত্তি, আচরণ ও সমাজ নিয়ে কাজ করে। এই দুটি শাস্ত্র একে অপরের পরিপূরক। এগুলোর সমন্বিত চর্চার মাধ্যমে আমরা যেমন বর্তমানকে বুঝতে পারি, তেমনি অতীতের ধারাবাহিকতাও নির্মাণ করতে পারি এবং মানবজীবনের সামগ্রিক চরিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হই।প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করা, যুক্তির মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠা করা এবং নিজের মেধা, মনন ও কৌতূহলকে বিকশিত করা জরুরি।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘আইকিউএসির প্রধান কাজ হলো মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করা।আমার পঁচিশ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রণোদনা ও পরিশ্রম থাকে, ভর্তি হওয়ার পর তা ধীরে ধীরে কিছুটা কমে যায়। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক।এই একাডেমিক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দুটি কালচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। প্রথম হচ্ছে শৃঙ্খলা। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রথম এবং প্রধান হচ্ছে শৃঙ্খলিত জীবন।দ্বিতীয় হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনা, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি গুণাবলী দিয়ে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং চালু করতে চাই, যা অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শুরু হয়নি। এটি চালু হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানান সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারবে।’
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার (৩ মে) থেকে ১০ দিনব্যাপী এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।