বিদেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও তাদের জীবনের বাস্তবতা অনেক সময়ই থাকে অজানা। পরিবার-পরিজন ছেড়ে হাজার মাইল দূরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অগণিত ত্যাগ ও বেদনাময় গল্প।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করা প্রবাসীদের একটি বড় অংশই দীর্ঘ সময় শ্রমঘন কাজে নিয়োজিত থাকেন। তীব্র গরম, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অল্প বেতন এবং কখনো কখনো বেতন বকেয়া থাকাও তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেকেই আবার নিয়োগদাতার কাছে পাসপোর্ট জমা রেখে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে বাধ্য হন।
প্রবাসীদের মানসিক চাপও কম নয়। পরিবার থেকে দূরে থাকা, সন্তানদের বেড়ে ওঠা সরাসরি দেখতে না পারা, অসুস্থ স্বজনের পাশে থাকতে না পারার কষ্ট তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে। উৎসব-পার্বণগুলো কাটে নিঃসঙ্গতায়, ফোনের ওপারেই সীমাবদ্ধ থাকে ভালোবাসা আর আনন্দ।
এছাড়া দালালের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে অনেক প্রবাসী ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ বা বেতন না পেয়ে তারা পড়েন চরম সংকটে। কেউ কেউ আবার অবৈধ অবস্থানের কারণে গ্রেপ্তার বা দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতেও থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।