পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার থেকে। ছুটির আমেজে ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরীতে দেখা দিয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা ও উচ্ছ্বাস।
সোমবার ছিল ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস। দিনশেষে বিকেল গড়াতেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে হাজারো মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবার চোখেমুখে ছিল নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখ সামনে রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে মানুষের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক করতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি যুক্ত হয়ে মোট ছুটি দাঁড়িয়েছে সাত দিনে।
ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অতিরিক্ত ছুটির প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে ৮ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে এই বিশেষ ছুটি ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা এক সপ্তাহ ঈদের আনন্দ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে টানা ছুটির মধ্যেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাগুলো চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও চলাচলের অনুমতি পাবে।
এছাড়া ছুটির দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত রাখতে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে কিছু সরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।