সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তন বা সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমেও সংবিধান পরিবর্তনের কোনো বিধান আনা সম্ভব নয়।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্নের পর কয়েকটি পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনোভাবেই অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা যায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই নিতে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আলোচিত একটি আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা না অধ্যাদেশ, না আইন—বরং মাঝামাঝি ধরনের একটি বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে যে কাঠামোর কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। ফলে সেই পরিষদের আহ্বানে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন ডাকার বিষয়টিও সাংবিধানিকভাবে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় এ ধরনের কোনো পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নই ওঠে না।
এ সময় তিনি জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই সনদকে ঘিরে গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভিত্তিক ভোটের ব্যবস্থা ছিল। তবে পরে একটি আদেশের মাধ্যমে সেখানে অতিরিক্ত প্রশ্ন যুক্ত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, গণভোটের রায় কার্যকর করতে হলে প্রথমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনী পাস হওয়ার পরই সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।