ঝালকাঠির রাজাপুরে রেহেনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আরিফ খলিফা ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে উপজেলার সাংগর গ্রামে স্ত্রীর মরহেদ তার পিতার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী আরিফ। ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আরিফ উপজেলার চটিখোলা এলাকার মান্নান খলিফার ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্র্রায় ৭ বছর আগে রেহেনার সঙ্গে আরিফের বিয়ে হয়। আরিফ ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি বাসায় নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করতেন এবং রেহেনা সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিলো। রেহেনার বাবা শহিদ হাওলাদার ও ভাই সাব্বির জানান, পারিবারিক কলহের জেরে রেহেনাকে নির্যাতন করে হত্যার পর অসুস্থতার নাটক সাজানো হয়েছে। শুক্রবার ভোরে মরদেহ সাংগর গ্রামে নিয়ে আসার পর পরিবার তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বামী আরিফ ও তার সঙ্গে আসা আত্মীয়রা দ্রæত সটকে পড়েন।
রেহেনার মামা শাহিন আকন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফোনে জানানো হয় রেহেনা অসুস্থ। তিনি বাসায় গিয়ে রেহেনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারকে হাসপাতালে নিতে বলা হলেও কিছুক্ষণ পরই আবার তাকে বাসায় ডাকেন আরিফ। শাহিনের দাবি, বাসায় গিয়ে তিনি বিষয়টি রহস্যজনক মনে করেন এবং রেহেনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার সকালে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনরা আঘাতের চিহ্ন দেখে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে আরিফসহ তার আত্মীয়রা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেহেনার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।