খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক পরিপত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ অনুযায়ী এ আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
পরিপত্রে বলা হয়, বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর ও পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় রোববার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গুইমারা উপজেলায় জারি থাকা ১৪৪ ধারা এখনো বহাল রয়েছে; সে বিষয়ে প্রশাসন কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানায়নি।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পরামর্শ গ্রহণের পরই ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আজ রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার কার্যকর করা হলো।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে জননিরাপত্তা ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় খাগড়াছড়ি সদর ও পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন জেলা প্রশাসক। ওই সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল পাহাড়ি কিশোরী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ও পরবর্তী সহিংসতার কারণে।
এর আগে শনিবার সকালে জুম্ম ছাত্র-জনতা সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সংগঠনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। ওই ঘটনায় পুলিশ শয়ন শীল নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার প্রতিবাদে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে খাগড়াছড়িতে অবরোধ শুরু হয়, যা পরদিন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ চলাকালীন ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন, আহত হন আরও অনেকে।
বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।