বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও তাঁর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সার্বক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হলেও মেডিকেল বোর্ড মনে করছে, এই মুহূর্তে তাঁর ফ্লাই করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শই এখন প্রধান বিবেচ্য।
ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাই নির্ধারণ করবে—কখন তাঁকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে। সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা এবং সুস্থতার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।
তিনি আরও জানান, তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং চিকিৎসকদের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। চিকিৎসা সমন্বয়ের কাজে অংশ নিচ্ছেন জুবাইদা রহমানও। পরিবারের সদস্য, নেতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোর্ডের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে জানানো হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি জানান, বিদেশে নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। মেডিকেল বোর্ড যখন মনে করবে তাঁর ফ্লাই করা নিরাপদ, তখনই তাঁকে বিদেশে নেওয়া হবে। কাতার সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ্য, টানা ১৩ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। পাকস্থলির জটিলতার কারণে গতকাল তাঁর এন্ডোস্কোপি করা হয়। শুরুতে কিছু রক্তক্ষরণ দেখা দিলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।