ঝালকাঠিতে একটি হত্যা মামলাকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মামলার বাদী মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামি করে হয়রানি করার অভিযোগে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর, ২০২৫) সকালে জেলার সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বিন্যাপাড়া গ্রামে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, যারা خود মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন।
এজাহারে যাদের সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছিল, அவர்களே মানববন্ধনে এসে সাংবাদিকদের কাছে জবানবন্দি দিয়ে জানান যে, তারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাদের একজন বলেন, “আমাদেরকে না জানিয়েই এই হত্যা মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানি না এবং এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” সাক্ষীদের এই বক্তব্যে মামলাটির সত্যতা নিয়ে गंभीर প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলার বাদী মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মন্টু, পিতা-মৃত আব্দুল খালেক হাওলাদার, তার বোন পারভিন বেগম পুতুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: ১। শামীম হাওলাদার (৩৫), পিতা-আফজাল হাওলাদার; ২। জসিম হাওলাদার (৩৫), পিতা-হারুন হাওলাদার; ৩। ইমন হাওলাদার (২৫), পিতা-ফারুক হাওলাদার; ৪। আফজাল হাওলাদার (৬০), পিতা-মৃত আঃ লতিফ হাওলাদার; ৫। রবিউল হাওলাদার (২২), পিতা-কবির হাওলাদার; এবং ৬। রাজিব সিকদার (২২), পিতা-সালেক সিকদার।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই মামলায় সম্পূর্ণ নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি শামীম হাওলাদার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী একজন নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আসল অপরাধী যেই হোক, তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু নিরীহ গ্রামবাসীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এভাবে হয়রানি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।”
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী গ্রামবাসীরা জানান, পারভিন বেগমের মৃত্যু একটি দুঃখজনক ঘটনা হলেও একে পুঁজি করে জালাল উদ্দিন মন্টু ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তারা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মন্টু বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন, যেখানে তিনি তার বোন পারভিন বেগম পুতুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। গ্রামবাসীর দাবি, এই এজাহারটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর মাধ্যমে নিরীহ প্রতিবেশীদের হয়রানি করাই মূল উদ্দেশ্য।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরীহ গ্রামবাসী হয়রানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।