জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যান পুনরায় পদ ফিরে পাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ইউনিয়ন বাসী।
সাংবাদিক গোলাম রব্বানি নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার পদ পুনরায় ফিরে পাওয়া খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বুধবার ৩০ জুলাই দুপুরে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ‘সাধুরপাড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রব্বানি নাদিম। পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ২০২৩ সালের ২০ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মাহমুদুল আলম বাবুকে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। তবে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাবু তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালত ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন, যার ফলে বাবু স্বপদে ফিরে আসার সুযোগ পান। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই রায় কার্যকর হওয়ায় তিনি আর মাত্র ২০ দিন চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা তাদের বক্তব্যে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলার কথা উল্লেখ করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে বাবু চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এলে এলাকায় পুনরায় অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু হবে। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাবুকে আবারও বরখাস্ত ও গ্রেফতার করার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লাহ, সহ-সভাপতি রাশেদুরজ্জামান সোনা মিয়া, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়া আহম্মেদ সুমন এবং বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র সমাজ জামালপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক আল মানছুর মুহিদ প্রমূখ ।