২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত পুলিশ হত্যা, থানা লুট এবং অস্ত্র হারানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই সময় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।
ফজলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পরে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র হারিয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অস্ত্র কোথায় গেল এবং এসব ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। তার মতে, ৫ আগস্টের পরবর্তী ঘটনাগুলো কোনোভাবেই আইনি ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা নয় এবং এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নেতা এবং তিনি সংসদে উপস্থিত থেকে বক্তব্য শুনছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার যোগ্য নয়।
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ৫ আগস্টের আগে পুলিশের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত। তবে পুলিশও দেশের নাগরিক এবং তাদের মা-বাবা ও সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে রাষ্ট্রের উচিত তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আশ্বস্ত করা যে সরকার তাদের দেখভাল করবে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি কমান্ডার ছিলেন এবং স্পিকার বীরবিক্রম ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তিনি কাউকে হত্যা করেননি, বরং সবাইকে জেলে পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, বিচার হবে।