বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ইনজেকশন প্রয়োগ ও নার্সের অবহেলায় আরোহী নামে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরোহী চৌমুহনী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপুর এলাকার জহির উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু আরোহীকে তার মা সালমা আক্তার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগের নার্সের গাফিলতির কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির স্বজনরা হাসপাতালে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। মঙ্গলবার সকালে সংকটাপন্ন অবস্থায় তার মা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এর আগে বাড়িতে ৩-৪ দিন চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং কয়েকবার ইনজেকশন পুশ করা হয়। বাড়িতে আর ইনজেকশন দেওয়ার উপযোগী না থাকায় শিশুটিকে হাতে ক্যানোলা লাগানো অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ডাক্তার দেখার আগেই নার্স ক্যানোলা পরিষ্কার করতে গেলে শিশুটি মারা যায়। তবে শিশুর স্বজনরা মৌখিকভাবে নার্সের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সালেহ আহমেদ সোহেল বলেন, কয়েকদিন আগে জ্বরের কারণে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রফিকুল ইসলাম আরোহীকে চিকিৎসা দেন এবং একটি ইনজেকশন দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি না রেখে বাইরে ইনজেকশন দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আবার হাসপাতালে আনার সময় শিশুটির হাতে থাকা ক্যানোলায় ব্লক পাওয়া যায়। ক্যানোলা পরিষ্কার করার সময়ই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার কারণেই শিশুটি মারা গেছে।