পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা অডিটরিয়াম ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কিছু কাজ করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ঠিকাদার।
বর্তমানে অডিটরিয়াম ভবনটি একটি কঙ্কাল রূপে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পিরোজপুর ও নাজিরপুরের উভয় তদারকি প্রতিষ্ঠান রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছে।
এলজিইডি অফিসের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০২০ সালে নাজিরপুর উপজেলা অডিটরিয়াম ভবনের কাজ নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিমরান মায়ান ট্রেড এন্টারপ্রাইজ, এমএমটিআই (জেভি) নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সিমরান মায়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দীকি শাহীন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নূরে আলম সিদ্দীকি শাহীন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ছোট ভাই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি একটি পুকুরের জলাশয়ের মাঝে নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। প্ল্যান অনুযায়ী কম রড দিয়ে পাইল পোতা হয়েছে এবং ভূগর্ভে পাইলের পরিধি কম হওয়ায় ভবনের পশ্চিম পাশে হেলে পড়েছে। ভবন নির্মাণের আগে জলাশয়ের চারপাশে থাকা শতাধিক মূল্যবান মেহগনি গাছ বিনা টেন্ডারে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেটে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে। সেই গাছ দিয়েই ভবনের ২৪টি দরজার ফ্রেম তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভবনে দৃশ্যমান। এ ছাড়া নির্মাণাধীন এই কঙ্কাল অডিটোরিয়ামটি এখন অসামাজিক কাজ ও মাদক সেবনকারীদের আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কাজ শুরুর পরপরই নির্বাহী দাবি, এই অর্থ রীতিমতো ভাগ বাটোয়ারাও হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ করার পর থেকেই ঠিকাদার পলাতক রয়েছে। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে এখনই একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যেকোনোভাবে অডিটরিয়াম ভবনটি নির্মাণ করা হোক। এই ভবনটি নাজিরপুরে জরুরি প্রয়োজন।
অডিটরিয়াম ভবনটি তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী দীর্ঘদিন যাবৎ অনুপস্থিত রয়েছেন। মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দাপ্তরিক কাজে অনুপস্থিত থাকছেন। অডিটরিয়াম প্রসঙ্গে তার অফিস কক্ষে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পিরোজপুর এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি এবং তার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নাজিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কে এম সাঈদ বলেন, উপজেলা সকল কর্মকর্তারা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও মুজিব কোট-প্যান্ট পরিহিত দুর্নীতিবাজরা সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। তাদের ব্যবহার অতীতের মতোই।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহানাজ তমা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের যে সমস্ত কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যে সমস্ত কাজ তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোও আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষে কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য তৎপর রয়েছে প্রশাসন।