সংবাদ: নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন। একই রাতে জেলা পুলিশ ও র্যাব-১১ সিপিএসসি যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন:
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, নিহতের মা ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান।
পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের কারণে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। ঘটনার দিন বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন তার বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচ যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। তিনি জানিয়েছেন, অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া জেলা জামায়াতে ইসলামী সভাপতি মোসলেহ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসাইন, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নরসিংদী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবাদ, শোক ও নিন্দা জানিয়েছে। তারা দোষীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
মেটা বর্ণনা: নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছরের কিশোরী হত্যার ঘটনা। পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।