নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিন যুগ ধরে গরুর অভাবে বুক দিয়ে তেলের ঘানি টেনে চলছিল মোস্তাকিন তেলি ও তার স্ত্রী ছকিনার জীবন সংগ্রাম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ৭৩ বছরের এই দম্পতি জীবনের শেষ প্রহরে দাঁড়িয়েও ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন এমন অমানবিক পরিশ্রমে। বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পাগলাটারী গ্রামের এই হৃদয়বিদারক বাস্তবতা উঠে আসে দৈনিক দেশের কথা অনলাইন মাল্টিমিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
মানবিক সেই সংবাদ নজরে আসে বাংলাদেশ আর্মির শিক্ষা কোরের বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। দেশের এই সূর্যসন্তানরা মোস্তাকিন দম্পতির করুণ জীবনযুদ্ধ দেখে ব্যথিত হয়ে এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। তাদের সহায়তায় নির্মাণ করা হয় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে একটি চৌচালা টিনের ঘর। পাশাপাশি মোস্তাকিন দম্পতির বাঁচার পথ সহজ করতে উপহার দেওয়া হয় আধুনিক সরিষা মাড়াই মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরিষার দানা।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে নতুন ঘর নির্মাণের পর মোস্তাকিন দম্পতির হাতে সরিষা মাড়াই মেশিন তুলে দেন বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সৈয়দপুরের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, সহযোগী অধ্যাপক লে. কর্নেল ড. শামীম রেজা, ড. মাহমুদুল হাসান, ড. শওকত আলী ও ড. মামুন হোসেন।
এর আগেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই দম্পতিকে দুটি অটোরিকশা ভ্যান ও নগদ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
অসহায় মোস্তাকিন ও ছকিনা দম্পতি নতুন ঘর ও মেশিন পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন। চোখ ভেজা কৃতজ্ঞতায় সহায়তাকারীদের দোয়া করেন তারা। দীর্ঘ দিনের অমানবিক পরিশ্রমের ভার লাঘব হওয়ায় এই দম্পতি জানান, এখন তারা বাকি জীবনটা শান্তি, সম্মান ও সমৃদ্ধিতে কাটানোর স্বপ্ন দেখতে পারছেন।