কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জয় পেয়েই কঠোর বার্তা দিয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শাপলা কলি প্রতীকে ১১৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতে বিজয়ী হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ঘোষণা দেন— দেবিদ্বারে চাঁদাবাজি, ঘুষ, টেন্ডারবাজি ও মাদক সিন্ডিকেটের দিন শেষ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবিদ্বারের সরকারি অফিস-আদালতে এখন থেকে আর ঘুষ-দুর্নীতি চলবে না। যারা সরকারি চাকরি করতে আসবেন, তাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সরকারি বেতন-ভাতা ও নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা নেওয়া যাবে না।
নির্বাচিত এই প্রার্থী আরও ঘোষণা দেন, দেবিদ্বারে এখন থেকে ‘চাঁদার কবর’ রচিত হলো। ব্যবসায়ী, সিএনজি স্টেশন মালিক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী কিংবা হোটেল মালিক— কেউই সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া এক টাকাও চাঁদা দেবেন না। যদি কেউ চাঁদা দাবি করে, তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
টেন্ডারবাজি ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান হাসনাত। তিনি বলেন, অন্যায় কাজ নিয়ে তার নিজের বাবা এলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ তার ছবি ব্যবহার করে অনিয়ম করলে তাকেও আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, নিয়মের মধ্যে থাকলে পক্ষ-বিপক্ষ সবাই তার কাছে নিরাপদ থাকবেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে তিনি হাঁটবেন না।
মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দেন তিনি। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট চলার অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেন— ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, যারা এতদিন টেন্ডারবাজি বা মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা চাইলে তওবা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। প্রয়োজনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে— রিকশা বা ভ্যান কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তবে গরিব-খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার কিংবা সরকারি সম্পদের দিকে বেআইনি হাত বাড়ালে জনগণই সেই হাত প্রতিহত করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
শেষে তিনি দেবিদ্বারের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইনসাফের সমাজ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।