গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সহিংসতায় চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত চারটি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। নিহতদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে সংঘর্ষে আহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
ঘণ্টাব্যাপী টানা সংঘর্ষের জেরে গোপালগঞ্জে আজ রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এনসিপির সমাবেশ শেষ করে নেতাকর্মীরা ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। দ্রুতই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চের সাউন্ড সিস্টেম, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং সমাবেশে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সমাবেশ শেষ করে এলাকা ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এনসিপির গাড়িবহর নতুন করে হামলার মুখে পড়ে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় বিকেল ৫টার পর গোপালগঞ্জ ছাড়েন তারা। প্রায় ১৫-১৬টি গাড়ির বহর নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা শহর ত্যাগ করেন।