বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দেশে ফেরা এখন দেশের রাজনীতির সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে—যেকোনো মুহূর্তেই দেশে পৌঁছাতে পারেন তিনি, সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
গত রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন, ইনশাআল্লাহ।’ তবে নির্দিষ্ট দিন-তারিখ প্রকাশ করা হয়নি কৌশলগত কারণে। একই সুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই।
পররাষ্ট্র ও আইন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বক্তব্যেও মিলেছে আশাবাদী সুর। তারা বলছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা ও সব আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তার জন্য বিদেশ ফেরত প্রক্রিয়া—ট্রাভেল পাসসহ প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে গুলশানের এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে চলছে নীরব প্রস্তুতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং নতুন উচ্ছ্বাস তৈরি করতে পারে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এখনো ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে। সরকার তাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) ঘোষণা করে এসএসএফ নিরাপত্তা প্রদান করছে। ৭৯ বছর বয়সী এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে গমন করেন তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আর এখন মায়ের গুরুতর অসুস্থতা তাকে ফিরিয়ে আনছে জন্মভূমিতে।
দেশের রাজনৈতিক মাঠে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—কবে আসছেন তারেক রহমান? প্রত্যাশা, অপেক্ষা এবং উত্তেজনায় দিন কাটাচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা।