রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিদ্রোহী ও বহিস্কৃতরা গুরুত্বপূর্ণ পদে – দৈনিক দেশেরকথা
Desher Kotha
৪ জুন ২০২২, ৮:৫৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিদ্রোহী ও বহিস্কৃতরা গুরুত্বপূর্ণ পদে


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি >২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন রায়পুরের রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান। এরপর ২০১১ সালে রায়পুর পৌর মেয়র নির্বাচনে নিজেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন পাঠান।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় আবারো বাবুল পাঠানকে বহিষ্কার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় দুইবার বহিষ্কার হওয়া সেই রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩১ মে) প্রায় ২০ বছর পর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। রায়পুর উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদকে সভাপতি ও রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনের শেষে কমিটির নেতাদের নাম ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ২০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন (দুলাল) এর সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করেন।

সেই সভায় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকনকে বহিষ্কার করা হয়। একইসাথে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সহযোগিতা করায় রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কার করা হয়। এখানেই শেষ নয়।

সেই সময়ে নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশিদের বিরোধীতা করে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেন রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান।
এরপর ২০১১ সালে রায়পুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন বাবুল পাঠান। পরে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তৎকালীন লক্ষ্মীপুর জেলা ও রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৮ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানের বিরুদ্ধে ভূমি দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালীন সময়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে গুম করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্রোহী ও বিতর্কিতদের আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকার পরও দল থেকে দুইবার বহিষ্কার হওয়া বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছেমাহমুদুন্নবী সুমন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ তাকে অব্যাহতি দিয়েছিলো। তিনি পরবর্তীতে ক্ষমা পেয়েছেন। ২০১৫ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হয়ে অদ্যাবধি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, রায়পুরের নেতা-কর্মীদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিঞা মো. গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ২০১১ সালে উনি (বাবুল পাঠান) যখন নির্বাচন করেছিলেন তখন নৌকা প্রতীক ছিলো না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। পরে জেলা আওয়ামী লীগ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলো।

তিনি বলেন, এছাড়া নৌকা প্রতীকে নির্বাচন ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এ ধরনের (বিদ্রোহীদের পদ না দেয়ার) সিদ্ধান্ত তখন থেকে কার্যকর হয়েছে।জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এতে তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী সভাপতি ও ইসমাইল খোকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তিন বছর মেয়াদি গঠিত উপজেলা কমিটি ছিলো ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট। ২০১৭ সালের ১৪ মে মেয়াদোত্তীর্ণ রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী দুলাল মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী ২০০৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও নতুন কমিটি পায়নি রায়পুর আওয়ামী লীগ। যার ফলে গেলো দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছিলো উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাবির লোক-প্রশাসন বিভাগ শিক্ষার্থী সংসদের নতুন ভিপি কাব্য, জিএস আক্কাস

উলিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময়

২ কোটি লিটার পাম তেল কিনছে সরকার

ভিসা আবেদনের ব্যাংক স্টেটমেন্টে কিউআর কোড যুক্ত করার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

মাঝেমধ্যে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি : শান্ত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে লংমার্চ হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আত্রাইয়ে বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সীমান্তে কাঁটাতার-মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে লাভ নেই: ভারতকে নাহিদ

১০

রুয়েটে ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, জব্দ ক্ষতিকর উপকরণ

১১

রায়পুরে হাসপাতাল ও ইমামের বিরোধ নিস্পত্তি

১২

চুয়াডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ২ জন মাদকসেবী গ্রেফতার, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

১৩

কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: ৭ম দিনে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ ও মার্কেটিং বিভাগের অংশগ্রহণ

১৪

১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে শেষ ৭ উইকেট, পাকিস্তানকে হারিয়ে মিরপুরে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

১৫

ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পের কাজে ব্যাপক দূর্নীতি

১৬

১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কর দিতে হবে না, প্রস্তাবিত বাজেটে ছাড়ের ইঙ্গিত

১৭

সীমান্তে কাঁটাতারের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পর্যবেক্ষণে চীন, ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ

১৯

মিরপুর টেস্টে শেষ সেশনে নাটকীয় লড়াই, ৭ উইকেট দরকার বাংলাদেশের

২০