বৃহত্তর চলনবিলে নতুন করে আশার আলো জাগাচ্ছে বিরল প্রজাতির পাখি – দৈনিক দেশেরকথা
Desher Kotha
২৩ জুলাই ২০২২, ১২:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বৃহত্তর চলনবিলে নতুন করে আশার আলো জাগাচ্ছে বিরল প্রজাতির পাখি

পাবনা প্রতিনিধি> পাবনার চলনবিল এলাকায় একসময় অনেক প্রজাতির পাখির চলাচল থাকলেও কালের বিবর্তনে অনেক পাখিই এখন আর চোখে পরে না।

পাখির আবাস স্থল ধংস ও খাদ্য শৃঙ্খল ব্যহত হওয়ায় বৃহত্তর চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় অনেক পাখি বিলুপ্ত হলেও বর্তমান সময়ে বিরল প্রজাতির কিছু পাখি নতুন করে যেন আশার আলো জাগাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার চাটমোহরের হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের নিচু জলাশয় ও ফসলের  খেত, হরিপুর ইউনিয়নের ডাকাতের ভিটা সংলগ্ন খাল, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালের পার্শ্ববর্তী ঝোঁপঝাড়, ফসলের খেতে বিরল প্রজাতির কিছু নতুন পাখি দেখা যায়।

অতীতে এক শ্রেণির পাখি শিকারী পাখি ধরে বিক্রি করলেও সরকারের প্রচারণা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের সচেতনতায় মানুষের পাখি শিকারের প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে।

চাটমোহর পৌর সদরের বালুচর মহল্লার কলেজ শিক্ষক কামরুজ্জামান জানান, ফসলের খেত, ফল ও ফুলবাগানসহ অন্যান্য স্থানে অসংখ্য ছোট বড় বিভিন্ন জাতের পোকা মাকড় থাকে। পাখিরা ক্ষতিকর  পোকা মাকড় খেয়ে ওদের বংশ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

 তিনি আরো জানান, এখন থেকে ২০ বছর আগেও চাটমোহরে বাবুই, কাঁক, শকুন, টিয়া, পেঁচা দেখা গেলেও বর্তমানে এ পাখিগুলো আর দেখা যায় না।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈকত ইসলাম জানান, চাটমোহরে লালকান চটক, দেশী সোনা বউ, বাংলা বাবুই, দেশী চাঁদী ঠোট, লালমুনিয়া, হলদে পা হরিয়ান, নীলকন্ঠ, জলময়ূর, লম্বা লেজ বিশিষ্ট শাহ বুলবুল, নীলগলা ফিদ্দা, ইন্ডিয়ান গোল্ডেন ওরিয়ন, ইষ্টি কুটুম, এশিয়ান কোয়েল, এশীয় বস্ত বউরী, করুন পাপিয়া, কালিম, চড়–ই, ডাহুক, তাইগা চুটকি, দাগী ছাতারেসহ বিভিন্ন পরিচিত ও বিরল পাখি রয়েছে।

 তিনি আরো জানান, আমি পাবনার চাটমোহরে বদলী হয়ে আসার পর অনেক পাখি দেখে অভিভূত হই। এ পর্যন্ত ৭৮ রকমের পাখির ছবি তুলেছি। পাখির প্রজাতির সংখ্যা যখন কমছে এমন সময়েও চাটমোহর চলনবিল এলাকায় বিরল প্রজাতির পাখিগুলো আশার আলো দেখাচ্ছে।

সমস্যা সম্পর্কে তিনি জানান, পুকুরে, ফল গাছে মানুষ কীটনাশক প্রয়োগ করছ।  ফসলের খেতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক, রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি জমির আগাছা, ঘাস, বাসা বাড়ির আঙিনার বেড়ে ওঠা ঘাস নির্মুলেও মানুষ কীটনাশক ব্যবহার করছে।

পাখিগুলোতো খাল, বিল, জলাশয়, ফল বাগান, ফসলের মাঠেই থাকে এবং এসব স্থান থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করে। পাখির খাবারের উৎসে কীটনাশক প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে পাখি মারা যাবে। অতিথি পাখি আসবে না। তাই পাখি বাঁচাতে আরো  বেশি বেশি জনসচেতনতা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাবির লোক-প্রশাসন বিভাগ শিক্ষার্থী সংসদের নতুন ভিপি কাব্য, জিএস আক্কাস

উলিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময়

২ কোটি লিটার পাম তেল কিনছে সরকার

ভিসা আবেদনের ব্যাংক স্টেটমেন্টে কিউআর কোড যুক্ত করার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

মাঝেমধ্যে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি : শান্ত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে লংমার্চ হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আত্রাইয়ে বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সীমান্তে কাঁটাতার-মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে লাভ নেই: ভারতকে নাহিদ

১০

রুয়েটে ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, জব্দ ক্ষতিকর উপকরণ

১১

রায়পুরে হাসপাতাল ও ইমামের বিরোধ নিস্পত্তি

১২

চুয়াডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ২ জন মাদকসেবী গ্রেফতার, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

১৩

কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: ৭ম দিনে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ ও মার্কেটিং বিভাগের অংশগ্রহণ

১৪

১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে শেষ ৭ উইকেট, পাকিস্তানকে হারিয়ে মিরপুরে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

১৫

ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পের কাজে ব্যাপক দূর্নীতি

১৬

১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কর দিতে হবে না, প্রস্তাবিত বাজেটে ছাড়ের ইঙ্গিত

১৭

সীমান্তে কাঁটাতারের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পর্যবেক্ষণে চীন, ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ

১৯

মিরপুর টেস্টে শেষ সেশনে নাটকীয় লড়াই, ৭ উইকেট দরকার বাংলাদেশের

২০