শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রায়পুরে পৌর মেয়রের উদ্বেগে সড়ক সংস্করণ  কলকতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র লিটন ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫২৫০তম জন্মাষ্টমী উদযাপন  রাজাপুরে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি কর্তৃক কার্যনির্বাহী সদস্য রাজাপুরে জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকরে দেশকে চল্লিশ বছর পিছিয়ে দিয়েছে-আমু কিশোরগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যর পেশা গরুর গাড়ি ও লাঙ্গল তৈরির কাঠমিস্ত্রি নিজেদের ঐক্যই হোক শোক দিবসের শপথ- এমপি হারুন ঝালকাঠিতে নারীর লাশ নিয়ে স্বজনদের বিক্ষাভ ঢাকায় গার্ডার চাপায়  নিহতদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

বিরামপুরে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প

নয়ন হাসান
  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৬৬ বার-পাঠিত
বিরামপুর প্রতিনিধি>দিনাজপুরের বিরামপুর হতে ক্রমান্বয়ভাবে মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ভারে এবং বাহারী বিজ্ঞাপনে হারিয়ে যাচ্ছে বিরামপুরের বাঁশ ও ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প। বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের কদর নেই বললেই চলে।
ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। এক সময় গ্রামীন জনপদে মানুষ গৃহস্থালি কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হলেও এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্পটি। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হত বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা বাঁশ ও বেতের চিত্র।
বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর, মির্জাপুর, মুকুন্দপুর, বিশ্বনাথপুর ও কেটরাহাটসহ কয়েকটি গ্রামে মাহালী পরিবার ঐতিহ্য ধরে রাখাসহ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে আকড়ে ধরে রেখেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর কদর দিনদিন বেড়ে যাওয়া এই কুটির শিল্পের চাহিদা এখন আর নেই। তাছাড়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। বাজার গুলো দখল করেছে প্লাস্টিক ও এ্যালুম্যানিয়াম।
দেখা মিলে না আর বাঁশ ঝাড়ের। তাছাড়াও প্লাস্টিক পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ওপর। জানা যায়, এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থাথী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। বাঁশ ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব পণ্য বিক্রি করেই চলতো তাদের জীবন জীবিকা। এখনো গ্রামীণ উৎসব ও মেলা গুলোতে বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি খাল, চাটাই, খালুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক সেল্ফ কদাচিৎ চোখে পড়ে।
যেখানে তালপাতার হাত পাখারই কদর নেই, সেখানে এসব পণ্য পাওয়ায় ভাগ্যের ব্যাপার। যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। মূল্যবৃদ্ধি, বাঁশ-বেতের দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে হটিয়ে দিয়েছে।
মির্জাপুর গ্রামের বাঁশ-বেত শিল্প বিক্রি করতে আসা সুনিল পাহান বলেন, বাঁশ-বেত শিল্পের দুর্দিনে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পরিবার এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে। অনেকে এ পেশা বদলে অন্য পেশায় গেলেও পূর্বপুরুষের হাতেখড়ি পেশাকে কিছুতেই ছাড়তে পারেননি তারা।
বিরামপুরে শনি ও মঙ্গলবার পশু হাটসহ উপজেলার কয়েকটি সাপ্তাহিক হাটে নিয়ে ঘোরাফেরা করলে কিছু সৌখিন মানুষরা তাদের পণ্য কিনেন। যা বিক্রি হয় তা দিয়ে তয়-তরকারি কিনে বাড়ি ফেরেন তারা।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD