বিএনপি সরকারের কোনো সময়েই শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না এবং বর্তমান সময়েও এমন সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে বলা যায় এবারও কেউ শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ পাবে না।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেন।
বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে স্তম্ভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পুঁজিবাজার। বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক, তাদের শক্তির বড় উৎস হলো শেয়ারবাজার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে ভয়াবহ পতনের মুখে পড়ে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি লুট হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থ সাধারণ মানুষের, যারা তাদের সঞ্চয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। বিশেষ কিছু গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এই লুটপাট সংঘটিত হলেও তাদের কখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ দিয়ে শেয়ারবাজারকে আবারও আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনবেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, যেহেতু বিশেষ কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে উপস্থাপন করেছে, তাই নতুন করে জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। পরে বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
এদিকে সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও বিদায়সহ বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসানো প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে দেশ এগোবে কীভাবে, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো গভর্নরের চেয়ে ভালো। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ভবিষ্যতে আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হবে না এবং সামনে এ ধরনের নিয়োগ হয় কি না, তা সবাই দেখতে পারবেন।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান গভর্নর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন—এ কারণে তাকে পরিবর্তন করে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দলকে সমর্থন করা মানেই দলের লোক হওয়া নয়।
অধিবেশনে পরে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে উভয় বিল নিয়েই বিরোধী দল আপত্তি জানায় এবং আলোচনার জন্য সময় চাইলেও জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।