1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanhrd74@gmail.com : desher kotha : desher kotha
  3. mdtanjilsarder@gmail.com : Tanjil News : Tanjil Sarder
কুড়িগ্রামে ধার করা সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা - দৈনিক দেশেরকথা
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো ধরনের প্রশ্ন না করার নির্দেশ: বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম কিশোরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় প্রধান শিক্ষক জেল হাজতে কিশোরগঞ্জে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরণে পেঁপের চারা বিতরণ লেখাপড়া করতে চায় প্রতিবন্ধী রজনী এবার বাবার পদাংক অনুসরণ করে সিনেমায় নাম লেখালেন ডিপজলকন্যা ওলিজা মনোয়ার দেশেরর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দামের রেকর্ড ইবিতে ছাত্র ইউনিয়নের দিনব্যাপী ‘সাংগঠনিক কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত আগামীকাল রবিবার চট্টগ্রামে ৩০টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুন মাসের পর ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

কুড়িগ্রামে ধার করা সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা

মোহাম্মদ আলী স্বপন
  • প্রকাশ শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

 46 বার পঠিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি> প্রতিবেশীর সন্তানকে ধার করে এনে সেই সন্তানকে নিজের দাবী করে শিক্ষা কর্মকতার্কে দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষিকার বিরুদ্ধ। 
জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আলেয়া সালমা চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন। গর্ভধারণ না করেও এ ছুটি নিতে তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। প্রতিবেশীর সন্তানকে নিজের সন্তান দেখিয়ে এ ছুটি আদায় করেন তিনি। কয়েক মাস যেতে না যেতেই তা জনসম্মুখে উঠে আসে।


অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক (বড়বাবু) আজিজার রহমান ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ আলীর যোগসাজসে এ ধরনের অনৈতিক ছুটিতে আছেন ওই শিক্ষিকা।
জানা যায়, আলেয়া সালমা বদলী সূত্রে ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মুনিয়ারহাট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে বিয়ে করেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলা কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক শফি আহমেদ স্বপনকে। বিয়ের পর থেকে বগুড়ায় চলে যান আলেয়া সালমা। এরপর করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও তিনি স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসহ নানা অজুহাতে ছুটি নিয়েছেন।
সর্বশেষ গর্ভধারণ না করেও মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করেন আলেয়া সালমা। চলতি বছরের ১৪ মার্চ সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য দিন দেখিয়ে ১৩ মার্চ থেকে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন আলেয়া সালমা।
কিন্তু গর্ভকালীন সালমার শারীরিক কোনো পরিবর্তন বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের নজরে পড়েনি। এ কারণে তিনি ১৩ মার্চ কোলে শিশু সন্তান নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে হাজির হন। জমা দেন ছুটির আবেদন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শারমীন নামের এক নারী।
মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঝে মধ্যে আলেয়া আপা স্কুলে আসতেন। আমাদের সঙ্গে দেখা হতো। তাকে দেখে সন্তানসম্ভবা মনে হয়নি। অভিভাবক ফরিদুল ইসলাম, আব্দুল মমিন ও ফরিদা বেগম জানান, অলেয়া সালমা আপা ভুয়া সন্তান দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। আর এসব কিছু করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক ও অফিসাররা। বিদ্যালয়টির অন্য শিক্ষকেরা জানান, নাগেশ্বরী থাকা অবস্থায় তিনি আসতেন। তবে বগুড়া যাওয়ার পর তাকে আসতে দেখতাম না। সন্তান হওয়ার বিষয়টি তারা শুধু শুনেছেন, দেখেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলেয়া সালমার ঘরে প্রথম স্বামীর ২ সন্তান, দ্বিতীয় স্বামীর ১ সন্তান রয়েছে। তৃতীয় (বর্তমান) স্বামীর ঘরে কোনো সন্তান না থাকলেও তিনি নিজেকে ৪ সন্তানের জননী হিসেবে দাবী করেন। তবে শিক্ষা অফিসে শুধুমাত্র প্রথম স্বামীর দুই সন্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা আছে। শেষ যে শিশুটিকে নিজের সন্তান দেখিয়ে আলেয়া সালমা ছুটি ভোগ করছেন সে সন্তান তার নয়। শিশুটি সালমার বর্তমান স্বামীর বাড়ির পাশের দম্পতি আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীনের দ্বিতীয় সন্তান।
এ বিষয়ে শারমিন জানান, সালমা আমার আত্মীয়ের মতো। আমি সন্তানসহ তার সঙ্গে কুড়িগ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বাচ্চা তার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে, সেটা আমি কিভাবে বুঝবো।তিনি আরোও জানান, তার বড় মেয়ের নাম আফিফা। বয়স পাঁচ বছর। আর ছোট মেয়ের নাম আশফিয়া। মার্চ মাসে আশফিয়ার জন্ম হয়েছে।
এ বিষয়ে আলেয়া সালমা জানান, কী হয়েছে না হয়েছে সবাই জানে। আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এটিও সবাইকে ম্যানেজ করে আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষা অফিসের বড়বাবু এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি মুঠোফোনে আরো বলেন, আপনারা নিউজ করে আমার কিছুই করতে পারবেন না। যতদিন আমার ট্রান্সফার হবে না, ততদিন আমি ছুটি নিয়েই চলবো। আমাদের সিস্টেম আছে। চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা কারো নেই।
প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষক আলেয়া সালমা নিয়মমাফিক ছুটিতে আছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক (বড়বাবু) আজিজার রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, আলেয়া সালমা তার প্রতিবেশী বোন হয়।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু নোমান মো. নওশাদ আলী বলেন, বিধি অনুযায়ী শিক্ষিকার মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি অন্যের বাচ্চাকে নিজের বলে চালিয়ে দেয় তাহলে কিছু করার নেই। কেননা আমরা তো আর ডিএনএ পরীক্ষা করি না, করার উপায়ও নেই। নাগেশ্বরী উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, আলেয়া সালমার সন্তানের বিষয়টি যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park