শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্ষুদে উদ্ভাবক ওয়াকিমুল ইসলাম রিফাতের তৈরি গাড়িতে চড়ে তার উদ্ভাবনী প্রতিভাকে সম্মান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে রিফাত নিজেই তার তৈরি গাড়িটি চালান। এ সময় গাড়ির ভেতর রিফাতের পাশেই বসেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে বসে রিফাতের সঙ্গে উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। গাড়িটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে আরও উন্নত করা যেতে পারে সে বিষয়েও তিনি আগ্রহ দেখান। রিফাতের এই উদ্যোগকে অনুপ্রেরণাদায়ক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার পাশে থাকার বার্তাও দেন।
রিফাত যশোর জেলার চৌগাছা শহরের ব্রাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবু খায়েঁরের ছেলে। জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে কষ্ট হওয়ায় তিনি এমন একটি গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন, যা মানুষের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এতে করে শুধু রিফাত নয়, তার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী যে কোনো মানুষ সহজেই এই গাড়ি চালাতে পারবেন।
উদ্ভাবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে রিফাত পাঁচ বছর ধরে স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে এটু আই স্মার্ট গাড়ির প্রকল্প শুরু করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ধাপে ধাপে গাড়িটির কাজ এগিয়ে নেন। গাড়িটি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় দুই থেকে তিন বছর। টিফিনের টাকার পাশাপাশি ঈদের সেলামি এবং পরিবারের সহযোগিতাও ছিল তার বড় শক্তি।
রিফাতের বাবা আবু খায়েঁর শুধু আর্থিক সহায়তাই করেননি, নিজের পেশাগত কাজের ফাঁকে ছেলের উদ্ভাবনী কাজে শ্রম দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাবার এই সহায়তা রিফাতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।
ক্ষুদে উদ্ভাবক রিফাতের তৈরি এই গাড়ি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সহজ করার সম্ভাবনারও একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে।