কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইকারীরা সিএনজিতে তুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয় বলে জানিয়েছে র্যাব। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি জানান, বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা জোর করে বুলেট বৈরাগীকে একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয় এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরদিন শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়।
বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।