প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলেই নয়, আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, ওয়েটলিফটিং, সাঁতার, প্যারা সুইমিং, প্যারা অ্যাথলেটিকস, হুইলচেয়ার বাস্কেটবলসহ নানা খেলায় প্রশংসনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। এসব খেলাকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া আর শুধু বিনোদন, শখ কিংবা শরীরচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যেমন অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা আইন পেশা মানুষের জীবিকার মাধ্যম, তেমনি স্পোর্টসও আজ আন্তর্জাতিকভাবে একটি পেশায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বের এই অগ্রগতির ধারায় বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশও ইনশা আল্লাহ পিছিয়ে থাকবে না।
শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলে যেমন অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়, তেমনি শিক্ষার্থীরা যে খেলাটি পছন্দ করবে, সেটি তাকে অবশ্যই খেলতে হবে। সেই খেলায় দক্ষতা অর্জন করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি খেলাধুলাকেও শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, যে মানুষ কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। কারণ পরাজয় মানে হলো চেষ্টা করা, উদ্যোগ নেওয়া। জয়ী হতে হলে উদ্যোগ নিতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
সম্প্রতি সাফ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম শিরোপা জয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী সেই চ্যাম্পিয়ন দলকে আবারও অভিনন্দন জানান।
বক্তৃতার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে তারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য ও অর্জনের মাধ্যমে দেশের প্রতিনিধি হয়ে দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।