রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে একমাত্র বিজয়ী হয়েছেন ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদপ্রার্থী নার্গিস খাতুন। ২৩টি পদের মধ্যে ছাত্রদলের বাকি ২২ জন প্রার্থী পরাজিত হলেও, জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের এই সদস্য নিজের যোগ্যতায় বাজিমাত করেছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন আলোচনায় ‘নার্গিস’ নামটি
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম। ফল অনুযায়ী নার্গিস পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৮৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত হামিদুল্লাহ নাঈম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৩৮ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান জিহাদ, যার প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ৭৬৮।
বিজয়ের পর নার্গিস খাতুন বলেন, “আমি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি কোনো দলের রাজনীতি করি না। শুধুমাত্র ভোট করার জন্যই প্যানেলে ছিলাম। শিক্ষার্থীরা যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিয়েছেন, আমি তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব।” তিনি আরও বলেন, “আমি ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার মান উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
কে এই নার্গিস
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইল খর্দ্দকৌড় গ্রামের কৃষক আকবর আলীর কন্যা নার্গিস তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক থাকা নার্গিস ২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন এবং ২০১৪ সালে বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ দলে যোগ দেন। এরপর বাংলাদেশের হয়ে ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেন এবং জাপান, কোরিয়া, চীনসহ ১০টি দেশে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন।
নিজ গ্রামের সামাজিক বাঁধা ও কটূ মন্তব্য উপেক্ষা করে নার্গিস আজ দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এখন শুধু একজন ক্রীড়া সম্পাদক নন, বরং নারীদের প্রেরণার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩ পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। বাকি তিনটি পদের মধ্যে জিএস পদে সালাউদ্দিন আম্মার (শিবির), ক্রীড়া সম্পাদক পদে নার্গিস খাতুন (ছাত্রদল) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা বিজয়ী হয়েছেন।