অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সিলেটের পাথরমহাল এলাকায় পাথর উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরেই নির্বিঘ্নে চলছিল এবং রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া প্রশাসন এ কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজনৈতিক সিরডাপ মিলনায়তনে “ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। রিজওয়ানা হাসান জানান, ২০০৯ সালে তিনি পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেন, এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়। তবে এখনও কিছু এলাকায় পুনরায় লুটপাটের প্রচেষ্টা চলতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে প্রশাসন সাহায্য করবে না। প্রশাসন সাহায্য না করলে পাথর তোলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।” রিজওয়ানা বলেন, দেশের মোট পাথরের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, বাকি আমদানি করা হয়। তিনি ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যানের অভাবকে সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে পর্যটন উন্নয়ন করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংরক্ষণ হয়নি।
উপদেষ্টা বলেন, জলাশয় উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উপস্থিতি অনিবার্য। জনগণ যখন প্রতিবাদ শুরু করেছে, তখনই সিলেটের পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি চলনবিল, আড়িয়াল বিল ও বেলার বিল সংরক্ষণের কাজের কথাও উল্লেখ করেন।
ঢাকার জলাধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিজওয়ানা বলেন, খাল খননের উদ্যোগে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমেছে, তবে ড্রেজিংয়ের দুই মাসের মধ্যেই আবার ভরাট হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
নদী ও হাওর সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষায় কাজ চলছে। নদীর তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে, তবে সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো এখনও শনাক্ত হয়নি, যার জন্য নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ঝুঁকিপূর্ণ নদীর তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।