২০২৬ সালের হজে শারীরিকভাবে অসুস্থ কেউ অংশ নিতে পারবেন না—এমন ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির নতুন রোডম্যাপে বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত, তারা হজে অংশ নিতে পারবেন না।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব রোগ : সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিচের শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে হজে নিষেধাজ্ঞা থাকবে:
হৃদরোগ, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা, লিভার সিরোসিস, স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, ক্যানসার (বিশেষত কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপির রোগী), ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা নারী।
হজে যেতে হলে কী লাগবে? বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, হজে যেতে হলে সিভিল সার্জনের কাছ থেকে শারীরিক সুস্থতার সার্টিফিকেট নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে:
১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন শেষ করতে হবে
৯ নভেম্বর হবে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তি
২৪ আগস্টের মধ্যে ফ্লাইট, আবাসন ও পরিবহণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে হবে
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ইস্যু হবে হজ ভিসা
১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে হজযাত্রীদের সৌদি যাত্রা
নতুন নিয়ম: সব অর্থ যাবে ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মে
সব ধরনের অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর বাইরে অর্থ দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি কুরবানির অর্থও এই প্ল্যাটফর্মে জমা দিতে হবে।
খাদ্য ও আবাসন বিষয়ে বাধ্যবাধকতা : হজযাত্রীদের খাবার সংক্রান্ত চুক্তি করতে হবে সৌদি ক্যাটারিং কোম্পানির সঙ্গে। তাঁবু, পরিবহণ ও অন্যান্য প্যাকেজও নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই করতে হবে।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘জটিল রোগীদের হজে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘সৌদি আরবের সিদ্ধান্তে স্থায়িত্ব নেই। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে আমাদের হজ এজেন্সিগুলো বিপদে পড়ে। তাছাড়া সৌদি খাবার অনেক বাংলাদেশির জন্য অনুপযোগী।’
হজ কোটা ও নিবন্ধন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রাক-নিবন্ধনকারী ৩৩,৫২৭ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৬১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৩২,৮৬৬ জন। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কোটা পূরণে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।