সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘তাজু ভাই’ এখন দেশজুড়ে আলোচিত এক নাম। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই তরুণের ফলোয়ার সংখ্যা দিন দিন হু হু করে বাড়ছে।
‘তাজু ভাই’ নামে পরিচিত মো. তাইজুল ইসলাম মূলত একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুরে। সহজ-সরল আঞ্চলিক ভাষা ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো উপস্থাপনার কারণে তিনি অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান।
সম্প্রতি মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি ভিডিওতে তাকে জিলাপির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মতো প্রশ্ন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন।
ভাইরাল হওয়ার পর তার ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’-এর ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। আগে যেখানে তার অনুসারী ছিল প্রায় ছয় হাজার, সেখানে এখন তা লাখ ছাড়িয়েছে।
তবে মো. তাইজুল ইসলাম জানান, তিনি কোনো সাংবাদিক নন। মূলত এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে এবং সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি ভিডিও তৈরি করেন।
অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণ কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। বর্তমানে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। মাত্র একটি স্বল্পমূল্যের মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন ভিডিও বানানোর যাত্রা।
যদিও জনপ্রিয়তা বেড়েছে, তবে তার জীবনের কষ্ট এখনো কমেনি। তিনি আশা করেছিলেন তার পেজ মনিটাইজেশন পাবে এবং সেখান থেকে আয় হবে, কিন্তু এখনো তা সম্ভব হয়নি। ফলে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তাকে আগের পেশার দিকেই ফিরে যাওয়ার চিন্তা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কবিরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাইজুলের পরিবার। তার এই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে সমাজের বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, ‘তাজু ভাই’ এখন শুধু একটি ভাইরাল নাম নয়, বরং কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছেন যার ফলোয়ার বাড়ছে হু হু করে, আর যার গল্প ছুঁয়ে যাচ্ছে লাখো মানুষের মন।