মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের আবেদন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে সাজা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এসব অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যোগ্যতা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় বাকি চারটি অভিযোগে আলাদা করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে দেয়।
ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পলাতক অবস্থার অবসান ঘটালেন এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এখন আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।