1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকা। – দৈনিক দেশেরকথা
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কম দামে ওষুধ বিক্রি: কলাপাড়ায় ফার্মেসি বন্ধ সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের তালিকা চূড়ান্ত, সোমবার প্রকাশ হজযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পাঠালেন তারেক রহমান দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১ হাজার ছাড়াল শিরীন শারমিনকে সামনে রেখে নতুন আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হবে: গোলাম মাওলা রনি প্রভাবশালী-প্রশাসনের কব্জায় সুন্দরগঞ্জের পেট্রোল পাম্প ফের বড় পর্দায় জুটি বাঁধছেন আহান পাণ্ডে ও অনীত পাড্ডা শোলাকুড়িতে সনাতন ধর্মের বারো তীর্থি মেলায় হাজারো মানুষের ঢল জিয়ার খাল পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ হজযাত্রায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়বে না: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকা।

আলামিন
  • প্রকাশ রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : আবহাওয়া অনুকূল আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনারসের রাজ্যে ৩ জাতের আনারস আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে ক্যালেন্ডার জাতের আনারসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। মধুপুরের বাজারগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জলছত্র কৃষি মার্কেট, গারোবাজার, মোটেরবাজারসহ অন্যান্য বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত তিন কোটি টাকার আনারস দেশের বিভিন্ন প্রন্তে নিয়ে যাচ্ছে কৃষক-ব্যবসায়িরা।

মধুপুরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, মধুপুরে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালেন্ডার জাতের ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, জলডুগি বা হানিকুইন ২ হাজার ৩৯২ হেক্টর এবং এমডি-টু ২৬ হেক্টরে আনারস আবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের সংযোগস্থলে আনারসের জন্ম হলেও ১৫৪৮ সালে ভারত উপমহাদেশে আনারসের আগমন ঘটে। ১৯৪২ সালে বাংলাদেশের মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামের মিজি দয়াময়ী সাংমা মেঘালয় থেকে ৭৫০টি চারা এনে প্রথমে আনারস আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ কোটি আনারস চারা পাহাড়ী অঞ্চলে শোভা পাচ্ছে। শুধুমাত্র ক্যালেন্ডার জাতের প্রায় ১১ কোটি আনারস বাজারজাতের উপযোগি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫শ কোটি টাকার উপরে।

সূত্র জানায়, মধুপুরের ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে আনারস আবাদ হয়। পাহাড়ী ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়িরা আনারস আবাদ করে থাকেন। এদিকে প্রান্তিক চাষিরা ব্যয়বহুল আনারস আবাদ করতে না পেরে তাদের জমি লিজ দিয়ে থাকেন। ধনাঢ্যরা বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই বছরের জন্য লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, লিজ মানি, জমি প্রস্তুত করণ, সার-কীটনাশক, পিজিআর প্রয়োগ, রোপন ও সংগ্রহ করে বাজারজাত পর্যন্ত প্রতিটি আনারসে ব্যয় হয় ১৫-১৮ টাকা। যাদের নিজস্ব জমি এবং নিজে শ্রম দেন তাদে ব্যয় হয় ১০-১১ টাকা। বর্তমানে এই আনারস ছোটগুলো ১৩-১৭ টাকা, মাঝারি আনারস ২৫-৩৫ টাকা আর বড় আনারস ৩৫-৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রমাস পর্যন্ত এই আনারস সংগ্রহ ও বিপনণ চলবে। উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার ফারুক আহমেদ জানান, কৃষকরা প্রতিদিন ভোরেই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, ভ্যান ও সাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনে জলছত্র, মোটেরবাজার, গারোবাজার, আশ্রাসহ বিভিন্ন বাজারে আনারস নিয়ে আসেন। এছাড়া বড় কৃষক বা আনারস ব্যবসায়িরা খেত থেকেই ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়ক বেয়ে কৃষকরা সাইকেল, অটোরিক্সা, সিএনজি ও ভ্যান রিক্সা দিয়ে বাজারে আনারস নিয়ে আসছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে সাড়িবদ্ধভাবে আনারস নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। অনেকেই আনারস কেনাবেচায় ব্যস্ত। কেউ কেউ আনারস কিনে স্তুপ করছেন। কেউবা উঠাচ্ছেন ট্রাকে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কথা বলার সুযোগও তাদের কম। কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আনারস ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। গোপিনাথপুরের লিটন সরকার ২৫ টাকা দরে, বেরীবাইদ গ্রামের রবিউল ৩৫ টাকা দরে, আশ্রা গ্রামের আশরাফ ৪০ টাকা দরে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন। এবার লাভের মুখ দেখায় তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠেছে। খুলনার ব্যবসায়ি আব্দুল বারেক জানান, তিনি ৪০ টাকা দরে আনারস কিনেছেন। খুলনায় এই আনারসের ব্যাপক চাহিদা। তারমতো প্রায় সত্তুরের অধিক বেপারি মধুপুরের আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকেন। হবিগঞ্জের আনারস ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, মধুপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ঢাকা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, সিলেট, নাটোর, রাজশাহী, খুলনা, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুরসহ সারা দেশেই আনারস সরবরাহ হয়। মধুপুরের আনারসের চাহিদা ও লাভ দুই বেশি। জলছত্র ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মুন্সি জানান, জলছত্র কৃষি বাজারসহ গারোবাজার, আউশনারা, মহিষমারা, আশ্রা, মোটেরবাজার, শোলাকুড়ী, দোখলাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্পটে আনারস ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। বড় কৃষক বা বেপারিরা খেতের পাশেই ট্রাক ভর্তি করে আনারস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের অর্থকরী ফসল আনারসের ঐতিহ্য ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানো গেলে অনেক সম্ভাবনার দাড় উম্মোচন হবে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্র অর্জনের পাশাপাশির জেম, জেলি, জুস উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার সুযোগ রয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার আনারসের আকার বড় হওয়ায় কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে প্রায় ৩ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে। এই মৌসুমে মধুপুরে প্রায় ৭শ কোটি টাকার আনারস বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করা এবং আনারস দিয়ে জেম, জেলিসহ নানা উপকরণ তৈরি করে বিপণনের মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্র অর্জন সম্ভব। এ নিয়ে কৃষি বিভাগ ইতোমধেই কাজ শুরু করছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park