দেড় বছর পর বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঘটেছে তিনজনের। সর্বশেষ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আক্রান্তদের মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, শুধু সচেতন থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট XFG ও XFC বর্তমানে সংক্রমণের জন্য দায়ী। এটি ওমিক্রনের JN.1 শাখার উপধরন। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও এটি প্রাণঘাতী নয়। আক্রান্তদের বেশিরভাগই জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না।
এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবাই বয়সে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
এরই মধ্যে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতালে ৫০টি সাধারণ শয্যা এবং ১৫টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। কুর্মিটোলা, মুগদা ও বিভাগীয় শহরগুলোর হাসপাতালেও কোভিড ইউনিট চালু করা হয়েছে। সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নজরদারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বাড়ায় সরকার নতুন করে সতর্কতা গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ফাইজারের টিকা। এর মধ্যে ১৭ লাখ ডোজ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৬ আগস্ট। যাদের এখনো টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনা প্রতিরোধে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাস্ক পরিধান, হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার মতো নির্দেশনা রয়েছে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন না হলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে।