বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল তারকা সাকিব আল হাসান রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতি থেকে সরে যাননি, তবে এই মুহূর্তে তার প্রধান অগ্রাধিকার ক্রিকেট খেলা এবং দেশে ফিরে আসা। দলীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান বলেও জানিয়েছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি দেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, বর্তমানে তাদের দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম না থাকায় তিনি ক্রিকেটেই মনোযোগী হচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম যখন আবার শুরু হবে বা তারা যখন রাজনীতি করতে পারবেন, তখন তিনি রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করবেন।
সাকিব আরও বলেন, রাজনীতি এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষের জন্য বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তার ভাষায়, রাজনীতি আজীবন করা যায়, কিন্তু ক্রিকেটের সময় সীমিত। তাই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাকি সময়টাকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে সেটি তার ভালো লাগবে এবং সে আশা এখনো তার মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, পরিস্থিতি কখনো একই রকম থাকে না, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে যেখানে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়।
উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি।
তবে সম্প্রতি বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সাকিবকে দেশে স্বাগত জানানো হবে।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব বলেন, তিনি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ এবং আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সমাধানে সময় লাগলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে দ্রুত সব জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন।