বসন্তের অপরূপ ভাঁটফুলের উম্মাদনার সমাহার শেষে নবীণ গ্রীষ্মের আঙিনায় এখন সেই ভাঁট ফুলের লাল টুকটুকে আভায় গ্রামবাংলার প্রকৃতিক সৌন্দর্যে যেন নতুন করে আর এক প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এমন আবহে নবীন গ্রীষ্মের প্রাণ-প্রকৃতিকে মোহময় করে তুলেছে।বুনোভাঁটগাছের পাকা ফলের রক্ত রাঙানো লাল আভায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের নৈসর্গিক প্রকৃতিকে মনোমুগ্ধকর ও বর্ণিল করে তুলেছে। গ্রামীণ পথঘাট, খোলা মাঠ, ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে থাকা ভাঁটফল প্রকৃতিতে বয়ে এনেছে এক অনন্য বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য।
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন রঙিন হয়ে উঠে, তখন গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর ভরে উঠে লাল শিমুল ফুলের মায়াবী সৌন্দর্যে। আর এই সময়ে চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য বুনোভাঁট ফল।লাল টুকটুকে এ ভাঁটফল যেন শিমুল ফুলের অবয়বে নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে। যা প্রকৃতিপ্রেমীসহ নানা বয়সি মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছে এক নতুন মুগ্ধতা।কিছু দিন আগেও প্রকৃতিতে ছিল হৃদয় হরণ করা ভাঁটফুলের রাজত্ব।
এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়েছেন ফুলপ্রেমীসহ নানা শেণিপেশার মানুষ। বসন্ত শেষে গ্রীষ্মের শুরুতে সেই ফুলের আধিক্য শেষে গ্রামীণ প্রকৃতিতে লাল রঙের মায়ায় ফুটেছে ভাঁটফল। ভাঁটগাছের পাকা ফলের লাল আভায় প্রকৃতিতে এনেছে বৈচিত্র্যময় এক অনন্য সৌন্দর্য।সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামীণ প্রকৃতির মেঠো পথের ধারে, পতিত জমিতে, ঝোপঝাড়ে, জমির সিমানা আইল-গড়ে, সেচ ক্যানেলের ধারে, কবর-শ্মশানসহ বিস্তীর্ণ জনপদের চারপাশ এখন অনাদওে বেড়ে উঠা ভাঁটগাছের শাখা-প্রশাখা জুড়ে ফলের গাঢ় লাল আভায় রঙিনময় হয়ে উঠেছে।যেন পৃথিবীর আবির মাখা সব রঙের শিশি উপুড় করে ঢেলে দিয়েছে ভাঁট ফলের গায়ে। দুর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকে কেউ যেন লাল রঙের তুলির আঁচর এঁকে দিয়েছে। যা বিমোহিত করে তুলছে প্রকৃতিপ্রেমীসহ নানা বয়সি মানুষকে।সকাল কিংবা বিকেলের কোমল আলোয় যখন ভাঁটফলে টিকরে পড়ে তখন তার লালচে আভা আরো উজ্জ্বল ও কোমল হয়ে উঠে।
গ্রীষ্মের হালকা নিলুয়া বাতাসে ধুলতে থাকা ফলগুলো যেন প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে নেচে চলছে। এতে করে গ্রামীণ পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি ও মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে ফুলের মতো ভাঁট ফলের সৌন্দর্য ও উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।প্রকৃতি প্রেমীরা বলেন, বসন্তে ভাঁটফুলের মুগ্ধতা ছড়ানো শেষে ফুল ঝরে গিয়ে ফল আসে। এ ফলটিও দেখতে ফুলের মতোই সুন্দর। ফল দেখলে মনে হয় যেন ফুল ফুটে আছে।ভাঁটফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি যেমন অনিন্দরূপে সেজে উঠেছিল, তেমনি আরও দৃষ্টিনন্দনরূপে ফুটে উঠেছে ভাঁটফুলের মাযাবী এক বর্ণিল সৌন্দর্যে। ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে কোন অংশে কম নয় ভাঁটফলের সৌন্দর্য।
ভাঁটফলের চোখ ধাঁধানো ও মনোহর সৌন্দর্য যে কাউকে সহজেই আকৃষ্ট করছে। ভাঁট ফল প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। প্রকৃতির এই অভিনব উপস্থাপন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয় পরøীবাংলার গ্রামাঞ্চলে এখনো লুকিয়ে আছে অজস্র সৌন্দর্যের ভান্ডার, যা একটু খেয়াল করলেই চোখে পড়ে। শিমুলের রূপে ভাঁটফলের এই মুগ্ধতা শুধু চোখ জুড়ায়না, বরং প্রকৃতির অদ্ভুদ ও সৃজনশীরতার এক অপূর্ব নিদর্শন।স্থানীয়রা বলেন, প্রতি বছর এই সময়টাতে ফুল ফুরিয়ে গেলে ভাঁটগাছের ফুলের স্থানে ফুলের মতো ফল ধরে এবং ধিরে ধিরে তা লাল রঙ ধারণ করে। যা দেখতে শিমুল ফুলের অবয়ব। ফলটি দেখলে যে কেউ একে ফুল মনে করবে।
এ ফলের মোহনীয় সৌন্দর্য যে কাউকে কাছে টানার পাশাপাশি প্রকৃতিকে দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল করে তুলেছে।কিশোরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা, রুবাইয়া খানম বলেন, ভাঁট তার সম্মোহনী ফুলের পাশাপাশি ফলের স্নিগ্ধ- কোমল অপরূপ সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমী, পথচারীসহ নানা বয়সি মানুষকে মুগ্ধ করে তোলে। ভাঁটগাছের ফল ফুলের চেয়ে আরো বেশি আকর্ষণীয়।গ্রামীণ জনপদের সর্বত্র টুকটুকে লাল হয়ে ফুটে থাকা ফল প্রকৃতিতে এক ভিন্নমাত্র যোগ করেছে। দুর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজের মাঝে ছড়িয়ে আছে লাল মুক্তোর মতো অসংখ্য ফল। যেন গাছের শাখা-প্রশাখা জুড়ে রক্তা রাঙানো আগুন লেগেছে। আসা-যাওয়ার পথে চোখে পড়লে দৃষ্টি ফেরানো দায়। এসময় মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, মুলত সাদা ও হালকা বেগুনি রঙের ফুল হয়।
বসন্তে ফুলের সমাহার শেষে গ্রীষ্মকালে এ গাছে ফল ধরে। এ ফল পাকার আগে শিমুল ফুলের মতো লাল রঙের ৫ পাপড়ি দ্বারা আবৃত থাকে। টুকটুকে লাল রঙের এ পাপড়ি ও তার ভিতরে নীলচে-কালো ফল ধরে। যা দুর থেকে ফুলের মতোই সুন্দর দেখায়।ভেষজ ওষুধীগুনসম্পুর্ণ ভাঁট গাছ ও তার ফল শুধু সৌন্দর্য বাড়ায়না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। গ্রামীন জীববৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে এই ফল নানা প্রজাতির পোকা-মাকড় ও পাখির জন্যর গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।সব মিলিয়ে ভাঁটফলেরর লাল মায়ায় এখন বর্ণিল হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার প্রাণ প্রকৃতি। যা মানুষের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের নতুন অনূভব এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালবাসা।