ডিসি সম্মেলন–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, খাদ্যে ভেজাল ও বাল্যবিবাহ বন্ধসহ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন এবং এতে অংশগ্রহণ করছে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি জনপ্রশাসনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি জানান, সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য ডিসিদের সবসময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অভিযোগগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন তিনি।
সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সব জেলায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংস্কৃতি ও খেলাধুলার প্রতিযোগিতা শুধু শীতকালেই নয়, বরং সব মৌসুমে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বন্যা ও খরা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।