নাজিরপুর(পিরোজপুর)প্রতিনিধি:পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ পরিণত হয়েছে বিষাদে। একসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক পরিবারের তিনজন- স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান। তারা ঢাকা থেকে পিরোজপুরে যাচ্ছিলেন ঈদ উদযাপন করতে। পথে ঢাকা-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার
শিকার হন।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১২টার দিকে বাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনার মারা গেছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজন পিরোজপুরের নাজিরপুরের এক পরিবারের। নিহতরা হলেন, নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত আবু হানিফের ছেলে সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা বেগম এবং তাদের আট বছরের ছেলে আরমান। এই দম্পতির ১৩ বছর বয়সী রহমতুল্লাহ নামে আরেক সন্তান রয়েছে।
স্বজনরা জানান, ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পরিবারসহ ঢাকার নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকার আলীগঞ্জ থেকে দোলা পরিবহনের একটি বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহাগ। তিনি নারায়ণগঞ্জ এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাছ টানা ট্রাকের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে কয়েকজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
নিহত দম্পতিরবে বড় ছেলে রহমাতুল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঈদের দিন বাবা-মা ছোট ভাইকে হারিয়েছি। তারা পৃথিবী ছেড়ে গেছে। কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানাত ডালিম বলেন, নিহত তিনজনই আমার প্রতিবেশী। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পরিষদের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটির পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গোপালগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট থানা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে।