মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অংশীজনদের কাছে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
বুধবার দুপুরে এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এই সহায়তার আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট বৈশ্বিকভাবে দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা এবং দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দেশ এককভাবে এ ধরনের সংকট মোকাবেলা করতে পারবে না। এজন্য আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যার প্রভাব ১৯৮০-এর দশকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে এবং সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সরকারপ্রধান জানান, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা ব্যবস্থাপনা, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। পাশাপাশি ভোক্তা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মজুতদারি এবং আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালুর মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।