শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বা ভয় দেখাননি এবং তার পদত্যাগ চাওয়া নিয়ে করা সমালোচনাও অযৌক্তিক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, “আমি তো কাউকে থ্রেট করিনি, শিক্ষার্থীদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখন তো সেই দিনও নেই যে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরব। কিন্তু তারা আমার পদত্যাগ চাইছে। আমি কেন পদত্যাগ করব? পদত্যাগ তখনই করব, যখন সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে পারব না।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আগের মতো গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার কারণে বিভ্রান্ত হবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পরীক্ষার হলে আচরণ নিয়ে ছড়ানো নানা গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা ভাবছে ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্ট দিলেই আমি ঘাবড়ে যাব—মোটেও না।”
এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই নমুনা খাতা যাচাই করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু পরীক্ষক ঠিকভাবে নম্বর দেননি এবং এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।