বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে প্রতিদিন গড়ে চারশরও বেশি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার বড় অংশই হচ্ছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া থেকে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব হামলার প্রায় ২৪ শতাংশই আসে চীন থেকে।
‘সাইবার সিকিউরিটি ইন ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় জানানো হয়, ২০২৩-২৪ সালে প্রতিদিন ১৪৫ থেকে ৬৩০টি পর্যন্ত সাইবার হামলা মোকাবিলা করেছে দেশের ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে চীন থেকে ২৪%, উত্তর কোরিয়া ১৩% ও রাশিয়া থেকে ১২% হামলা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান থেকে ৭% করে, রোমানিয়া ও তুরস্ক থেকে ৫% করে এবং বুলগেরিয়া থেকে ৪% হামলা এসেছে।
গবেষণা জানায়, ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তি উন্নয়নে দুই যুগে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হলেও এর মাত্র ৫% ব্যয় হয়েছে সাইবার নিরাপত্তায়। ব্যাংকিং সেবার ৯৫% এখন ডিজিটাল হলেও নিরাপত্তায় বিনিয়োগ কম থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিনটেক উদ্যোক্তা ড. শাহাদাত খান বলেন, “ব্যাংকগুলো ডিজিটাল হচ্ছে, কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষিত হচ্ছে না। বড় হামলা ঠেকাতে প্রস্তুতি দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠানে হ্যাকারদের চাহিদা মেনে অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে।”
বিআইবিএমের জরিপে দেখা যায়, দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক বড় ধরনের হামলা প্রতিরোধে সক্ষম নয়। আইটি বিভাগের অনেক কর্মকর্তা প্রস্তাব নিয়ে চেয়ারম্যান বা এমডির কাছে যেতে ভয় পান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা বাড়াতে ভয় ও অবহেলার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে যথাযথ বিনিয়োগ জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানান, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতিমালা জারি করেছে এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী হামলার ধরন পাল্টে যাওয়ায় দক্ষ জনবল বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।