রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও সহ–সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’, আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আম্মার।
ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
জিএস পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার বড় ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির প্যানেলের ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন আম্মার ও ফাহিম রেজা দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ছিলেন।
এদিকে সহ–সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির। তিনি ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পান, যেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস (এষা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি।
রাকসু নির্বাচনে মোট ২৩ পদে ২৪৭ জন প্রার্থী ১০টি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৭টি হলে ৫৯৭ জন প্রার্থী হল সংসদের ১৫ পদে এবং সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী লড়েন।
রাকসুর ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০১ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্র ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। নির্বাচনে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নারী হলগুলোতে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।