শিশুরা ঘুমের ঘরে হঠাৎ হেসে ওঠে—এ দৃশ্য কারও চোখ এড়ায় না। মা–বাবারা তা দেখে একদিকে অবাক হন, অন্যদিকে আনন্দও পান। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ঘুমের মধ্যে শিশুরা কেন হাসে?
অনেকে বলেন, ফেরেশতারা এসে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলে। আবার কেউ মনে করেন, শিশুরা স্বপ্ন দেখে বলেই হাসে। তবে চিকিৎসক ও গবেষকরা বলছেন, এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর মস্তিষ্ক দ্রুত বেড়ে ওঠে। এ সময় ঘুমের মধ্যে তাদের নানা ধরনের রিফ্লেক্স কাজ করে। যেমন—হঠাৎ হাত–পা নড়ানো, মুখ বিকৃত করা, আবার কখনো হেসে ওঠা। এটাকেই বলা হয় রিফ্লেক্স স্মাইল। এটা আসলে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের অংশ।
ছয় মাস বয়সের পর থেকে শিশুরা স্বপ্ন দেখা শুরু করে। তখন দিনের কোনো আনন্দঘন মুহূর্ত, মায়ের কণ্ঠস্বর কিংবা খেলার স্মৃতি স্বপ্নে ভেসে উঠতে পারে। সেসব আনন্দই মুখে ফুটে ওঠে হাসি হয়ে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুর এই হাসি শুধু বৈজ্ঞানিক কারণে নয়, পরিবারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মায়ের ক্লান্তি কমে যায়, বাবার মন ভরে ওঠে আনন্দে। পরিবারে তৈরি হয় এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ঘুমের মধ্যে এভাবে হেসে ওঠা একেবারেই স্বাভাবিক। এতে ভয় বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বরং এটি সুস্থ বিকাশেরই লক্ষণ। তবে যদি ঘুমের সময় ঘন ঘন কান্না, অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুর হাসি যেন এক অলৌকিক দৃশ্য। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা থাকলেও, মা–বাবার কাছে তা নিছক বিজ্ঞানের বিষয় নয়। বরং এটি আনন্দের উৎস, ভালোবাসার প্রতীক।