বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা কিংবা চাকরির জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে ই-পাসপোর্ট। পুরোনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের বদলে আধুনিক এই পাসপোর্ট শুধু নিরাপদই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্যও। তবে অনেক আবেদনকারীর কাছেই প্রশ্ন—পাসপোর্ট করতে কত খরচ পড়বে, কত দিনে পাওয়া যাবে এবং প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া
ই-পাসপোর্ট করতে হলে প্রথমে যেতে হবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.passport.gov.bd)। সেখান থেকে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে হাজির হতে হবে। সেখানে ছবি তোলা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্বাক্ষরের কাজ সম্পন্ন করার পর আবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়।
পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীর ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদনটি অনুমোদিত হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাতে পৌঁছে যায় পাসপোর্ট।
কত দিনে পাওয়া যায়
আবেদনের ধরন অনুযায়ী সময় ভিন্ন হয়—
সাধারণ (Normal): প্রায় ২১–৩৫ কর্মদিবস
জরুরি (Express): ৭–১০ কর্মদিবস
সুপার এক্সপ্রেস (Super Express): ২–৩ কর্মদিবস (শুধু ঢাকা অফিসে)
কত খরচ পড়বে
ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাতার সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরণে। সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকা হলো—
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছরের মেয়াদ
সাধারণ: ৪,০২৫ টাকা
জরুরি: ৬,৩২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস: ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছরের মেয়াদ
সাধারণ: ৫,৭৫০ টাকা
জরুরি: ৮,০৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস: ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছরের মেয়াদ
সাধারণ: ৬,৩২৫ টাকা
জরুরি: ৮,৬২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস: ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছরের মেয়াদ
সাধারণ: ৮,০৫০ টাকা
জরুরি: ১০,৩৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস: ১৩,৮০০ টাকা
দালালের ঝুঁকি
পাসপোর্ট অফিসে গেলেই অনেক সময় দালালের খপ্পরে পড়েন সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাড়তি টাকা দাবি করে। কিন্তু বাস্তবে দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়, যা পরে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় আবেদন বাতিলও হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দালাল ছাড়া সরাসরি অনলাইনে আবেদন করলে সহজেই নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
করণীয় ও পরামর্শ
জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও আবেদনপত্রের তথ্য অবশ্যই হুবহু মিলতে হবে।
২০ বছরের কম বয়সীদের জন্য জন্মসনদ বাধ্যতামূলক।
সরকারি চাকরিজীবীদের ছাড়পত্র বা সুপারিশপত্র লাগবে।
ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
রাতে সারারাত চার্জে মোবাইল রাখার মতোই সারাজীবন দালালের উপর নির্ভরশীল হলে বিপদ হতে পারে—তাই সচেতন থাকুন।
শেষকথা
ই-পাসপোর্ট করতে ঝামেলার কিছু নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক তথ্য ও সচেতনতা। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করলে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে হাতে পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক মানের এই পাসপোর্ট।